সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: অনেক কাণ্ড–‌কারখানার পর রোহতকের জেলে ঢোকানো সম্ভব হয়েছে বাবা রাম রহিমকে। কিন্তু ভণ্ড বাবা কি জেলে নেই? নাকি জেলেও বহাল তবিয়তেই? জল্পনা উসকে দিয়েছে জামিনে মুক্ত এক বন্দী। রাহুল নামে ওই বন্দী রোহতকের জেলেই ছিলেন। রাম রহিম সম্পর্কে জানিয়েছেন, জেলে রীতিমতো রাজার হালে গুরমিত। নিয়ম ভেঙে জেলে তাঁকে দেওয়া হয়  সুযোগ–‌সুবিধে। চলে বিশেষ খাতিরযত্নও। ভণ্ড বাবাকে যে রোহতকের জেলে আনা হয়েছে এ কথা শুনেছেন সব বন্দীই। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁকে চোখে দেখেননি কেউই। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, সাধারণ বন্দীদের চলাফেরায় রাশ টানা হয়েছে। রাহুলের আরও দাবি, তাঁরা কোনওদিন রাম রহিমকে কোনও কাজও করতে দেখেননি। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি রাম রহিম জেলেই নেই? যদিও রাহুলেরই বক্তব্য, সাধারণ বন্দীদের বাড়ির লোকেদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার সময় ধার্য করা হয়েছে ২০ মিনিট। কিন্তু রাম রহিমের লোকজনের জন্য সেই সময়টা দু’ঘণ্টা বা তারও বেশি। এই কথাতেই ইঙ্গিত মিলছে, জেলের মধ্যেই আছে ভণ্ড বাবা। আর তখনই উঠছে অপর প্রশ্ন। জেলের মধ্যে ভিআইপি ট্রিটমেন্ট পাচ্ছেন গুরমিত? এর আগেও অবশ্য একই অভিযোগ উঠেছিল। তবে জেল কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করে দিয়েছিলেন। জানিয়ে দিয়েছিলেন, রাম রহিমের সঙ্গে এরকম ব্যবহারের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু আর পাঁচটা জেলের বন্দীদের সঙ্গে থাকলে রাম রহিমকেও একই কাজে হাত লাগাতে হত। ‌জবাবে রাহুলের আনা অভিযোগ নস্যাৎ করে হরিয়ানার কারামন্ত্রীর দাবী, রাম রহিমের সঙ্গে বাকি বন্দীদের মতোই ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনও বিশেষ সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না তাকে। আসলে এই জেলে দুটি ব্যারাকের মধ্যে দূরত্বের কারণে কেউ কারোর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পায়না।  জামিনে বের হওয়া রাহুল জৈন নিজে প্রচার পাওয়ার জন্যই কিছু মনগড়া কথা বলছে। দুই সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণের দায়ে আগস্ট থেকে স্বঘোষিত ধর্মগুরু রাম রহিমের ঠাঁই হয়েছে রোহতক জেলে। ২০ বছরের সাজা হয়েছে তাঁর। জরিমানা অনাদায়ে তাঁর মেয়াদ আরও বাড়বে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top