আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আগস্টের প্রথম রবিবার ফ্রেন্ডশিপ ডে বা বন্ধুত্বের দিন বলেই পরিচিত। এই দিনটায় বন্ধুরা পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, গ্রিটিংস কার্ড, উপহার, ফুল, চকোলেট দিয়ে নিজেদের বন্ধুত্বকে আরও একবার ঝালিয়ে নেয়। সেই সব পুরনো বন্ধুদের, যাদের সঙ্গে আর দেখা হয় না রোজ, তাদের ঠিকানা, ফোন নম্বর খুঁজে শুভেচ্ছা জানানোয় যেন মনে পড়ে যায় ফেলে আসা দিন। খুলে যায় স্মৃতির ঝাঁপি। আর নতুন বন্ধুরা, যাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও কাজ, পড়াশোনার চাপে তা রয়ে গিয়েছে প্রতিদিনকার ফেসবুক, হোয়াট্‌অ্যাপের হাই–হ্যালোতে, এদিন তাদের সঙ্গে একটা আউটিং করলে বোধহয় মন্দ হয় না। 
ইতিহাস বলে, ১৯১৯–২০ সালে আমেরিকায় গ্রিটিংস কার্ড শিল্পের বাজার শুরুর সময় বিভিন্ন কার্ড কোম্পানিগুলি প্রথম এই দিনের প্রচলন করে। কিন্তু তখন এটাকে ব্যবসায়িক প্রচার নাম দিয়ে লোকে ভুলে যায়। তারপর ১৯৩০ সালের দোসরা আগস্ট আমেরিকাতেই হলমার্ক কার্ডের প্রতিষ্ঠাতা জয়েস হল ফের বন্ধুত্বের দিনকে তুলে ধরেন। হলমার্ক কার্ডের হাত ধরে ফের জনমানসে জায়গা করে নেয় ফ্রেন্ডশিপ ডে। দ্রুত এই দিনের প্রচার ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণ আমেরিকা, ইওরোপ এবং এশিয়ায়। প্যারাগুয়ের পুয়ের্তো পিনাসো শহরে ১৯৫৮–র ২০ জুলাই বন্ধুর সঙ্গে নৈশভোজ সারার সময় ওই দিনটিকে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব দেন র‌্যামোন আর্তেমিও। তৈরি হয় ওয়র্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড। ১৯৯৮ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের তৎকালীন মহাসচিব কোফি আন্নানের স্ত্রী নানে আন্নান, ‘‌‌উইনি দ্য পু’‌ নামের খেলনাকে বিশ্বে ফ্রেন্ডশিপ ডে–র দূত হিসেবে ঘোষণা করেন। ২০১১ সালে ৬৫তম সাধারণ সভার অধিবেশনে ৩০ জুলাইকে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের দিনের মর্যাদা দেয় রাষ্ট্রপুঞ্জ। যদিও পরে আগস্টের প্রথম সপ্তাহের রবিবারকেই বন্ধুত্বের দিন হিসেবে মেনে নেয় আমেরিকা, ভারত, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলি। দক্ষিণ আমেরিকা, ইওরোপে আবার জুলাই মাসেই মানা হয় বন্ধুত্বের দিন। 
ইতিহাসের কচকচানি এবার বন্ধ রেখে এই দিনে চলুন বন্ধুর হাত ধরে স্কুলজীবনের মতো বেরিয়ে পড়া যাক একদিনের ছোট্ট আউটিংয়ে। হোক না সে একটা সিনেমা দেখা, কফিশপে আড্ডা, বা পার্কে কিছুক্ষণ সময় কাটানো। কিছুই সম্ভব না হলে পাড়ার চায়ের দোকানে মাটির ভাঁড় হাতে কিছুক্ষণের জন্য সব ভুলে নিছক গসিপ করলেও আবার হয়ত সব মান অভিমান মিটে গিয়ে মিলে যাবে দুই বন্ধুর পথ।      

Back To Top