আজকালের প্রতিবেদন: ফের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে। এবার কাঠগড়ায় নিউ আলিপুরের বিপি পোদ্দার হাসপাতাল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিসবাহিনী মোতায়েন করা হয়। 
কিডনির সমস্যা থাকায় ৫ আগস্ট গভীর রাতে প্রবল জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন জিঞ্জিরা বাজারের সরকারপোলের বাসিন্দা বিজয়কুমার কুর্মি (‌৬৩)‌। ওইদিন সকালেই ডায়ালিসিস করানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বিজয়কুমারকে। প্রচণ্ড কাঁপুনি হচ্ছিল। ১০৪ ডিগ্রি জ্বর ছিল। তার সঙ্গে ভাবী পুত্রবধূ মোনালিসা ঘোষ ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‌ধুম জ্বর ছিল বলে আমরা বাড়ি নিয়ে যেতে চাইছিলাম না। বার বার ভর্তি নেওয়ার জন্য বলা সত্ত্বেও ভর্তি না নিয়ে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য হালপাতাল বলে। প্যারাসিটামল খাইয়েও জ্বর না কমায় বাধ্য হয়েই ওইদিন রাত ১টা নাগাদ হাসপাতালে নিয়ে গেলে অনেক জোরাজুরি করার পর ভর্তি নেয়। জরুরি বিভাগের দেখানোর পরই আইসিইউ–‌তে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। এদিন সকালে বাড়িতে খবর দেওয়া হয় রোগীর অবস্থা খারাপ। সকাল ৮টা নাগাদ হাসপাতালে যাই। রোগীকে একবারের জন্য দেখতে দেওয়া হয়নি। সওয়া বারোটা নাগাদ জানানো হয় রোগী মারা গেছেন।’‌ পরিবারের দাবি, অনেক আগেই বিজয়ের মৃত্যু হয়েছে। কারণ সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ আইসিইউয়ের বাইরে থেকে তাঁরা দেখেন ভেন্টিলেটর লাগানো ছিল না। বেডে এমনি শোয়ানো ছিল। বিজয়ের আগে কিডনি সংক্রান্ত সমস্যা ছিল না। মোনালিসা জানিয়েছেন, ‘‌চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে আমরা নিউ আলিপুর থানায় কার্ডিওলজিস্ট মনোজ সাহা, জেনারেল মেডিসিনের ডাঃ শমীক ব্যানার্জি এবং এস পান্ডার নামে অভিযোগ দায়ের করেছি।’‌  বিজয়ের ছেলে সঞ্জয় কুর্মি বলেন, ‘‌পায়ের সমস্যা নিয়ে বাবা এর আগে ২৮ এপ্রিল থেকে ২৮ মে পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন। সেই সময় প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বিল হয়। হাসপাতালে থাকাকালীনই ভুল চিকিৎসায় কিডনির সমস্যা শুরু হয়, যা আগে ছিল না। তারপর রোজ ডায়ালিসিস করানোর জন্য নিয়ে যেতাম। ৫ তারিখ সকালেও সেই জন্যই নিয়ে গিয়েছিলাম। যদি ঠিকঠাক চিকিৎসা হত,  তাহলে বাবাকে এভাবে হারাতে হত না। বাবার কেন উপযুক্ত চিকিৎসা হল না তার উত্তর চাই হাসপাতালের কাছে।’‌
এদিন সকালে মৃত্যুর খবর জানামাত্রই  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের সঙ্গে বচসা বাধে। দু’‌পক্ষের মধ্যে কথায় কথায় তর্কবিতর্ক বাড়ে। ভুল চিকিৎসায় বিজয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের আত্মীয়রা। পুলিস এসে সামাল দেয়। যদিও হাসপাতালের তরফে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়ে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁকে বাঁচানোর সবরকম চেষ্টাই করা হয়েছিল। সেপটিসেমিয়া হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়ে মৃতের পরিজনেরা ভাঙচুর চালায় বলে হাসপাতালের তরফে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও পরিবারের দাবি, তাঁরা কোনও হুমকি দেননি, ভাঙচুরও চালাননি। উল্টে তাঁদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। 

 

 

বিজয়কুমার কুর্মি।

Back To Top