অরুন্ধতী মুখার্জি: লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার, সিপিএমের একদা দোর্দণ্ড প্রতাপশালী সদস্য সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ঋতব্রত ভট্টাচার্যকে সমর্থন করতে পারলেন না। বুধবার ঋতব্রতকে নিয়ে যখন সিপিএমে বৈঠক চলছে, তখন সোমনাথ বলেন, ‘‌ও যা করেছে ঠিক করেনি। ওর বিরুদ্ধে পার্টি ব্যবস্থা নিলে কিছু বলার নেই। তবে আমি এখন পার্টিতে নেই। সেজন্য আমার ওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্পর্কে কিছু বলার নেই।’‌ 
পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে সিপিএম ইউপিএ সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলেছিল। সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে তখন পার্টি লোকসভার অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলে। লোকসভার অধ্যক্ষ পদ কোনও দলীয় পদ নয়। তাই তিনি পার্টির নির্দেশ মানেননি। তিনি আর দলে থাকতে পারেননি। কিন্তু সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় দলে থাকার সময় কখনও পার্টির বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি। বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের বিরোধী ছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই মত কখনও তিনি বাইরে প্রকাশ করেননি। কিছুদিন আগে, দল ছাড়ার বহু বছর পর আজকাল–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দলের অনেক বিষয়ে কথা বলেন। তাঁকে রাষ্ট্রপতি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। দল সে প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। এত বছর পরে প্রবীণ বয়সে, অসুস্থ অবস্থায় তিনি এ নিয়ে মুখ খোলেন। 
সেজন্যই তিনি একটি চ্যানেলে ঋতব্রত যেভাবে পার্টি–‌বিরোধী কথা বলেছেন তা মেনে নিতে পারেননি। ঋতব্রত পার্টি নেতাদের বিরুদ্ধেও বিষোদ্গার করেছেন। একে ভাল চোখে দেখেননি সোমনাথ। তিনি এদিন বলেন, ‘‌ঋতব্রতর বিষয়টি দল বিবেচনা করছিল। এই অবস্থায় তার অপেক্ষা করা উচিত ছিল। অপেক্ষা না করে যেভাবে সে বাইরে মুখ খুলেছে, তা তার করা উচিত হয়নি। পার্টি যখন তার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তখন সে যদি বিকল্প খুঁজে বেড়ায় তবে তা অনুচিত এবং খারাপ কাজও বটে।’‌ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এদিন ঋতব্রতর প্রতি কী মনোভাব পোষণ করেন তা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‌আমি ঋতব্রতর ব্যাপারে সহানুভূতিশীল ছিলাম। কিন্তু সে যেভাবে মুখ খুলেছে, তাতে আমি দুঃখিত। এমনিতেই পার্টির আজকের এই অবস্থা দেখে আমার কষ্ট হয়।’‌ ‌ সিপিএম সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, সমাজে বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধে আছে। কেউ তা ব্যবহার করেন, কেউ অপব্যবহার। সেই মত ফল পাবেন।
পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা না চাওয়ায় জ্যোতি বসু প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। তিনি কেবল দুটি শব্দ বলেছিলেন। তা‌ও অনেক দিন পর। তিনি বলেছিলেন, ‘‌ঐতিহাসিক ভুল।’‌ কিন্তু পার্টির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন। এতবড় সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরও তিনি দলের স্বার্থবিরোধী কোনও কাজ করেননি, বিরুদ্ধে মতামতও প্রকাশ করেননি। জ্যোতি বসু বা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতো বড় মাপের নেতা না হলেও নেপালদেব ভট্টাচার্যকে যখন পার্টি বহিষ্কার করে তখন তিনিও চুপচাপ ছিলেন। একটি কথাও বাইরে বলেননি। পরে পার্টি তাঁকে ফিরিয়ে নেয়। সৈফুদ্দিন চৌধুরির সঙ্গেও পার্টির মতের মিল হয়নি। কিন্তু সৈফুদ্দিন কখনও বাইরে শোরগোল করেননি। নেপালদেব ও সৈফুদ্দিনের উদাহরণ তুলে ধরে আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামী বলেন, ‘‌মার্কসবাদী দলে শৃঙ্খলাই আসল কথা। সেই শৃঙ্খলা ভেঙে ঋতব্রত যেভাবে পার্টি–‌বিরোধী বক্তব্য বাজারি করেছে, তা অপরাধ। সিপিএমে থাকতে হলে শৃঙ্খলা মানতে হবে। ঋতব্রতর কিছু বলার থাকলে পার্টির মধ্যে বলতে হত। এখন নতুন প্রজন্ম আরও গণতন্ত্র চাইছে। নতুন প্রজন্ম বলার আরও পরিসর চাইছে।’‌ ‌‌
বামফ্রন্টের শরিক নেতারাও ঋতব্রতর ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। সিপিআই নেতা প্রবোধ পান্ডা বলেছেন,‘‌তিনি পার্টির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে রাস্তায় আনলেন কেন?‌ বামপন্থাকেও কোনও সাহায্য করবে না।’‌‌‌‌ ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা নরেন চ্যাটার্জি বলেছেন, ‘‌দলের আদর্শ ও শৃঙ্খলা মানেননি ঋতব্রত। আমরা তঁার কাজ সমর্থন করি না।’‌‌

বঙ্গ সংস্কৃতি অস্ট্রেলিয়া

বুধবার ৮ নভেম্বর, ২০১৭

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজা

শুক্রবার ২৭ অক্টোবর, ২০১৭

রাত পোহালেই কোজাগরি লক্ষীপুজো

বুধবার ৪ অক্টোবর, ২০১৭

সিঁদুর খেলায় তারকা সমাবেশ

মঙ্গলবার ৩ অক্টোবর, ২০১৭

কলকাতা পুজো কার্নিভাল

মঙ্গলবার ৩ অক্টোবর, ২০১৭

গণেশ বন্দনায় মেতেছে বলিউড

বৃহস্পতিবার ২৪ আগষ্ট, ২০১৭

ফুলে ঢাকা চিলির মরুভূমি

বুধবার ২৩ আগষ্ট, ২০১৭

পুতিনের মেমেতে ছয়লাপ রাশিয়া

রবিবার ৬ আগষ্ট, ২০১৭

শহীদ অমিতাভকে শেষ শ্রদ্ধা

শনিবার ১৪ অক্টোবর, ২০১৭

সারমেয় সজ্জা

সোমবার ৩১ জুলাই, ২০১৭

Back To Top