শিখর কর্মকার: জায়গা বদলের সঙ্গে এবার বদলে গেছে পুজোর থিমও। নির্মীয়মাণ এক বহুতলে দুর্গাপুজোর আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছে বেহালা ফ্রেন্ডস। তাই থিম বদলে নির্মীয়মাণ বহুতলই এখন বিষয়–‌ভাবনা শিল্পীর। গত বছরের মতো এ বছরও রায়নগর মাঠে দুর্গাপুজোর আয়োজনের কথা ভেবেছিলেন এই ক্লাবের কর্তারা। সেইমতো কথা পাকা হয়েছিল শিল্পী রূপচাঁদ কুণ্ডুর সঙ্গে। ভাবা হয়েছিল বিষয়। কাজও এগিয়েছিল কিছুটা। শেষ পর্যন্ত ওই মাঠ হাতে আসেনি তাঁদের। রায়বাহাদুর রোডে এই মাঠের উল্টোদিকের এক নির্মীয়মাণ বহুতলটি মেলে পুজোর জন্য। বাধ্য হয়ে থিম বদলে ফেলতে হয় শিল্পীকে। জায়গাটি হাতে পাওয়ার সময় কংক্রিট ঢালাই ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না সেখানে। মণ্ডপ নির্মাণের জন্য ফাইবারে সিমেন্ট ব্লকে গাঁথনি তুলে ঢেকে ফেলা হয় প্রয়োজনীয় খালি অংশগুলো। তার ওপর লোহার যন্ত্রাংশ, কাঠ প্রভৃতি ব্যবহার করে মণ্ডপটি গড়ছেন শিল্পী। নারীর শরীরের সঙ্গে বেহালার মিল খুঁজে অসংখ্য বেহালায় সাজছে ওই মণ্ডপ। কোথাও তার ছবি, কোথাও মডেল। তবে সরাসরি নয়, আধুনিক শিল্পের দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকাশ পেয়েছে বেহালার নানা রূপ। কলকাতা প্রাচীন শহর। পুরনো বাড়ি ভেঙে উঠছে আজকের বহুতল। সেই কথা মনে করিয়ে দিতে নির্মীয়মাণ ওই বহুতল মণ্ডপের একাংশে তৈরি করা হয়েছে ধ্বংসপ্রায় এক বাড়ি। শিল্পীর কথায়, ‘‌শুধু স্থানাভাবে নির্মীয়মাণ বহুতলে মণ্ডপ গড়া নয়,  শৈল্পিক দৃষ্টি আর ইচ্ছা থাকলে আশপাশের সব কিছুই সুন্দর করে রাখা সম্ভব— এই বার্তাও দর্শকদের পৌঁছে দিতে চাই। চাইলে আমাদের প্রিয় শহরকে সত্যিই তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করতে পারি আমরা।’‌ কলকাতা পত্তনের পর এক বিত্তবান শ্রেণির উত্থান হয়। গড়ে ওঠে অট্টালিকা। থাম ও খিলানযুক্ত সে–‌সময়ের বাড়িগুলোয় ঝলমল করত ঝাড়বাতিল আলো। শোনা যেত ঘুঙুরের আওয়াজ। ভেসে আসত ঠুংরি, খেয়াল, টপ্পার সুর, সেতার, সুরবাহারের ঝঙ্কার। সেদিন আজ আর নেই। পুরনো সেই অট্টালিকার অনেকগুলোই হয় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, কিংবা গজিয়ে উঠেছে বহুতল। কলকাতা বদলেছে, কিন্তু রয়ে গেছে তার বাবুয়ানি। এই বিষয়টাই এবার উঠে আসছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীনে। শিল্পী অনির্বাণ দাসের ভাবনায় বাবুয়ানির চিত্র ধরা পড়ছে এখানে। অর্থাভাব গ্রাস করলেও দুর্গাপুজোকে ঘিরে আজও সেজে ওঠে কলকাতার বেশ কিছু বনেদি বাড়ি। রঙের প্রলেপ পড়ে ঠাকুর দালানে। সাফাইয়ের পর জ্বলে ওঠে ঝাড় লন্ঠনগুলো। এরকমই ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে। বিশাল বিশাল থামগুলো দাঁড়িয়ে আছে কড়ি–‌বরগার ওপর ভর দিয়ে। উধাও হয়েছে তার ছাদ। খোলা আকাশের নিচে কড়ি–‌বরগা থেকে ঝুলছে ঝাড়বাতি। বাবুয়ানির প্রতীক হিসেবে তার নিচে বিছানো হয়েছে ফরাশ। রয়েছে কোল–‌বালিশ, গড়গড়া। বাবুয়ানির সব কিছুই হাজির, শুধু নেই বাবু। সামনে ফিটন গাড়ি, আরামকেদারা। রয়েছে বিশাল আয়না, কিন্তু তার সামনে দাঁড়ানোর বাবু বা গিন্নিমা নেই। ইজেল আছে কিন্তু ছবি আঁকার বা আঁকানোর ব্যক্তিরা নেই। বাবুয়ানির প্রতীক হিসেবে এই মণ্ডপে দেখা মিলবে মোটা গোঁফ আর কোঁচানো ধুতি। জয় সরকারের আবহসঙ্গীতে শোনা যাবে নিধুবাবুর টপ্পা, ঘুঙুরের আওয়াজ আর ফিটন গাড়ির আওয়াজ। বদলে যাওয়া কলকাতার ছবি ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মধ্য কলকাতার ৫২ পল্লীর দুর্গাপুজোতেও। সেখানে শিল্পী কল্যাণ পালের পরিকল্পনায় পাশাপাশি বানানো হয়েছে পুরনো কলকাতা ও নতুন কলকাতার বাড়ি। নতুন কলকাতার বহুতল থেকে বের হওয়া হাত ধরে রেখেছে পুরনো কলকাতার বাড়িটিকে। থাকছে সেকালের স্থাপত্য, যানবাহন। থাকছে অতীত ও বর্তমানের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের ছবি। সে–‌সময়ের যাত্রাপালা, বাংলা সিনেমা–‌থিয়েটারের পোস্টার, বায়োস্কোপ, গ্রামোফোন। কলকাতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে হাতে টানা রিকশা। এরকম এক রিকশায় চড়ে সন্তানদের নিয়ে দুর্গাকে মণ্ডপে প্রবেশ করতে দেখা যাবে।‌

কলকাতার একাল–সেকাল। ৫২ পল্লীর মণ্ডপে। ছবি: শিখর কর্মকার

জনপ্রিয়

মুকুলকে নিতে আগ্রহী বিজেপি

বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

অসীম ঘটকের শেষকৃত্য সম্পন্ন

বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

থিম ‘‌কন্যাশ্রী’‌ বাঁধল গঙ্গা, টেমসকে  

বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বৃহস্পতিবার ২৪ আগষ্ট, ২০১৭

গণেশ বন্দনায় মেতেছে বলিউড

বুধবার ২৩ আগষ্ট, ২০১৭

ফুলে ঢাকা চিলির মরুভূমি

রবিবার ৬ আগষ্ট, ২০১৭

পুতিনের মেমেতে ছয়লাপ রাশিয়া

শনিবার ৮ জুলাই, ২০১৭

বঙ্গ সংস্কৃতি, আমেরিকা

শনিবার ১ জুলাই, ২০১৭

বঙ্গ সংস্কৃতি অস্ট্রেলিয়া

Back To Top