শিখর কর্মকার: প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে জিএসটি ছোবল বসিয়েছে কলকাতার দুর্গাপুজোয়। ফলে কিছুটা হলেও মন্থর হয়েছে শহরের পুজো–‌প্রস্তুতির গতি। বড় পুজো তো বটেই, শহরের মাঝারি পুজোগুলো এখন আর পাড়ার চাঁদার ওপর নির্ভরশীল নয়। বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে আদায়–‌হওয়া অর্থেই হয়ে আসছে শহরের বিগ বাজেটের পুজোগুলো। আর সেখানেই নেমে এসেছে জিএসটি–‌র খাঁড়া। কলকাতার দুর্গাপুজো এখন শুধু আর বাঙালির সেরা উৎসব নয়, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই পুজো পৌঁছে গেছে বিদেশিদের কাছেও। পুজোর ক’‌দিন অসংখ্য মানুষের সমাগম ঘটে মহানগরীতে। অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে বিভিন্ন সংস্থা ঝাঁপিয়ে পড়ে। তুলে ধরতে চায় তাদের ব্র্যান্ড‌। কেউ কেউ নতুন পণ্য বাজারে আনার জন্য বেছে নেয় দুর্গাপুজোর আঙিনাকে। স্পন্সর, ব্যানার, স্টল দেওয়ার মাধ্যমে তারা নানা অঙ্কের চাঁদা দেয় পুজো কমিটিগুলোকে। এই চাঁদা শুধুমাত্র চাঁদা নয়, চাঁদার বিনিময়ে বিজ্ঞাপনদাতারা পায় তাদের পণ্যের প্রচার। তাই আয়কর দপ্তরকে এই চাঁদার পরিমাণ জানাতে হয় বিজ্ঞাপনদাতাদের। জিএসটি ব্যবস্থা চালু হওয়ার এ বিষয়ে দোলাচলে রয়েছে অধিকাংশ বিজ্ঞাপনদাতা। পুজো কমিটির সঙ্গে বিজ্ঞাপনদাতার চুক্তিপর্ব শেষ হলেও কোথাও কোথাও আটকে রয়েছে টাকা। কেউ আবার পুজো কমিটির কাছেই জানতে চাইছে, তাদের জিএসটি নম্বর। দুর্গাপুজোর সঙ্গে আর্থিক লাভ–‌ক্ষতির সম্পর্ক নেই। অলাভজনক সংস্থা হিসেবে নথিভুক্ত পুজো কমিটিগুলোকে বছরে একবার আয়–‌ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে হয়। তবে দুর্গাপুজো করার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক নানা কাজ করে থাকে শহরের বেশ কয়েকটি পুজো কমিটি। ৮০জি ধারায় আয়করে ছাড় পেতে তাদের প্যান কার্ডের প্রয়োজন। দুর্গাপুজোকে ঘিরে চালু হয়েছে অসংখ্য পুরস্কার। এর অনেকগুলোই আর্থিক পুরস্কার। পুরস্কার বাবদ পাওয়া অর্থের ওপর জিএসটি কাটে ব্যাঙ্ক। সেই টাকা ফেরত পেতে রিটার্ন দাখিল করতে হয় পুজো কমিটিগুলোকে। সেক্ষেত্রেও প্রয়োজন হয় প্যান কার্ড। জিএসটি চালু হওয়ায় টিডিএসের কাটা টাকা কীভাবে ফেরত আসবে, তা নিয়ে এখনও ধারণা পরিষ্কার নয় পুজো কমিটির কর্তাদের। যে সব বিজ্ঞাপনদাতা জিএসটি নম্বর চাইছে, তাদের কী উত্তর দেবে, তা‌ও পরিষ্কার নয় তাদের কাছে। ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনদাতা। পুজো–‌প্রস্তুতির গতিও হয়েছে মন্থর। জিএসটি–‌র পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে কুমোরটুলিতেও। প্রতিমা গড়ার প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম ও পরিবহণের খরচবৃদ্ধি বাড়াচ্ছে প্রতিমার দাম। প্রতিমার কাপড়ের দাম অনেকটাই বেড়েছে বলে জানালেন কুমোরটুলি মৃৎশিল্প সংস্কৃতি সমিতির যুগ্ম সম্পাদক বাবু পাল। তিনি জানান, খরচ বাড়লেও প্রতিমার বেশি দাম দিতে চাইছে না অনেক পুজো কমিটিই। বাজেট কমানোর কথা ভাবতে শুরু করেছে শহরের কয়েকটি দুর্গাপুজো কমিটি। ‌‌

জনপ্রিয়

মুকুলকে নিতে আগ্রহী বিজেপি

বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

চীনে মুসলিম বিরোধী শব্দ বাদ 

বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

থিম ‘‌কন্যাশ্রী’‌ বাঁধল গঙ্গা, টেমসকে  

বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বৃহস্পতিবার ২৪ আগষ্ট, ২০১৭

গণেশ বন্দনায় মেতেছে বলিউড

বুধবার ২৩ আগষ্ট, ২০১৭

ফুলে ঢাকা চিলির মরুভূমি

রবিবার ৬ আগষ্ট, ২০১৭

পুতিনের মেমেতে ছয়লাপ রাশিয়া

শনিবার ৮ জুলাই, ২০১৭

বঙ্গ সংস্কৃতি, আমেরিকা

শনিবার ১ জুলাই, ২০১৭

বঙ্গ সংস্কৃতি অস্ট্রেলিয়া

Back To Top