আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ যা শুরু হয়েছিল দাসপ্রথা, এবং রবার্ট ই লি–র মূর্তি সরানোর প্রতিবাদ হিসেবে, পরদিন তাই হয়ে দাঁড়াল শ্বেতাঙ্গ এবং শ্বেতাঙ্গবিরোধী মিছিলে। ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার ভার্জিনিয়ার শার্লটভিলেতে। দুই পক্ষের হাতাহাতিতে মৃত্যু হল এক বিক্ষোভকারী এবং দুই পুলিসকর্মীর। মিছিলে তীব্র গতির গাড়ি জখম করল কমপক্ষে ৩৪ জনকে। শুক্রবার শার্লটভিলেতে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে নাৎসি তথা দক্ষিণপন্থী শ্বেতাঙ্গরা মিছিল বের করেন। তাঁদের স্লোগান ছিল নাৎসি দর্শন—ব্লাড অ্যান্ড সয়েল, যার অর্থ মানুষের পরিচয় তার বংশ ও রক্তের সম্পর্কে এবং তার আবাসস্থানে। এরপর শনিবার ‘‌ইউনাইট অ্যান্ড রাইট’‌ স্লোগান দিয়ে মিছিল হয় শার্লটভিলেতে। দক্ষিণপন্থী শ্বেতাঙ্গরা স্লোগান দেন, নিজেদের অধিকাররক্ষা এবং দাবিদাওয়া পূরণের জন্য। হঠাৎই উল্টোদিকে নাৎসি বিরোধীরা পাল্টা স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করে। এরপরই বোতল ছোড়াছুড়ি, হাতাহাতি বেঁধে যায় দু’‌পক্ষের। ক্রমে মিছিলের গণ্ডগোল শ্বেতাঙ্গ এবং শ্বেতাঙ্গ বিরোধী বিক্ষোভের আকার নেয়। সেই সময়ই একটি গাড়ি বেপরোয়াভাবে মিছিলের মধ্যে ঢুকে পড়ে কমপক্ষে ৩৪ জনকে জখম করে।

 
পুরো অশান্তির জন্য নিও নাৎসি বা নাৎসিপন্থীদের ভর্ৎসনা করেছেন ভার্জিনিয়ার গভর্নর টেরি ম্যাকঅলিফ। বিক্ষোভকারীদের বাড়ি ফিরে যেতে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের বিক্ষোভে শুধুই আমেরিকার বদনাম হয়। এরা দেশপ্রেমীর ভান করলেও সত্যিকারের দেশপ্রেমী নন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যে সব মার্কিনীরা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে দেশের সেবা করছেন তাঁরাড় আসল দেশপ্রেমিক। 
ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দেশবাসীকে মনে রাখতে হবে তাঁরা সবাই আমেরিকার নাগরিক। ধর্ম, বর্ণ, জাতি— সব কিছুর ঊর্ধ্বে নিজের দেশের নাগরিকত্ব। জাতি বা বর্ণবিদ্বেষ আমেরিকা কখনওই সমর্থন করে না। ট্রাম্প আরও বলেন, শুধু তাঁর বা তাঁর পূর্বসূরী বারাক ওবামার আমলেই নয়, দীর্ঘ দিন ধরে আমেরিকাকে বিভাজিত করার এই বর্ণবিদ্বেষ নীতি কাজ করছে। কিন্তু আমেরিকাতে এই নীতির কোনও জায়গা আগেও ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না।

 

ভার্জিনিয়ায় বিক্ষোভকারীদের মিছিলে বেপরোয়া গাড়ি।                         

Back To Top