আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌নিজেকে রাজা বা রানি বলে ভাবতে সবাই ভালোবাসে। কিন্তু শেষমেশ কতজন আর তা হতে পারে। তবে সুযশ দীক্ষিত হয়েছেন। আর অন্য কোনও রাজ্যের নয়, নিজের আবিষ্কার করা রাজ্যের রাজা হয়েছেন তিনি। মিশর এবং সুদানের মাঝে ৮০০ বর্গ মাইলজুড়ে অবস্থিত বির তাওয়িল, যা কোনও দেশেরই অংশ নয়, সেই জায়গাটি সম্পূর্ণ নিজের বলে দাবি করেছেন সুযশ। গত ৫ তারিখ নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে নতুন নাম দিয়েছেন 'দীক্ষিতের রাজ্য'। নিজের নতুন নামকরণ করেছেন রাজা প্রথম সুযশ। রাজধানী সুযশপুর। রাজ্যের রাষ্ট্রপতি তাঁর বাবা। প্রধানমন্ত্রী তথা সেনাপ্রধান ভাই সুযোগ দীক্ষিত। নিজের রাজ্যে নতুন পতাকা, ওয়েবসাইট তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের লগ্নির আহ্বান জানিয়েছেন রাজা প্রথম সুযশ।
ফেসবুকে নিজের রাজ্য জয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি দিয়ে পতাকা হাতে ছবিও আপলোড করেছেন সুযশ। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় যুবক মিশর ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। ৫ তারিখ স্থানীয় সময় ভোর ৪টে নাগাদ মিশরের আবু সিম্বেল থেকে স্থানীয় গাড়িচালক মুস্তাফার সঙ্গে মিশরের দুর্গম অঞ্চলগুলি ঘুরতে বেরোন। প্রথমে নারাজ হলেও পরে প্রচুর টাকায় রাজি হন মুস্তাফা। সফরের আগে মিশর সেনার কাছে ৩টি শর্ত রাখতে হয় সুযশকে। কোনও সেনাঅঞ্চলের ছবি তোলা যাবে না, ওই দিনই ফিরতে হবে এবং কোনও দামি জিনিস সঙ্গে নিয়ে যাওয়া যাবে না। সেই মতো, নিজের সব দামি জিনিসপত্র স্থানীয় বান্ধবী এসরার কাছে জমা দিয়ে তাঁকে বলে যান মধ্যরাতের মধ্যে তিনি না ফিরলে পুলিসে খবর দিতে। এরপর প্রায় ৬ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে বির তাওয়িলে পৌঁছিয়ে এলাকাটির প্রায় ৩১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত ঘুরে দেখে সুযশ বুঝতে পারেন, পাণ্ডববর্জিত এলাকাটি শাসকহীন। তারপরই সেটা নিজের রাজ্য বলে দাবি করেন সুযশ। ওই এলাকা এর আগেও কমপক্ষে ১০ জন নিজের বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু পৃথিবীতে রাজ্য দখলের ইতিহাস মেনে সেখানে শস্যবীজ পুঁতে সুযশের দাবি, বৈধভাবে বির তাওয়িল এখন তাঁরই। জনমানবহীন অঞ্চলে টিকটিকি ছাড়া আর কোনও জীব না থাকায় সেটাকেই জাতীয় পশু ঘোষণা করে প্রজাদের সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ শাসনতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। অন্য কোনও রাষ্ট্র তাঁর দেশ দখল করতে আসলে যুদ্ধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে সুযশ সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের অ্যাডভেঞ্চারের চেষ্টা না করাই ভাল।

 

দীক্ষিত রাজ্যে পতাকা হাতে রাজা প্রথম সুযশ।                      ‌

জনপ্রিয়

Back To Top