আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ফের জঙ্গি হামলা পাকিস্তানে। সেনা জওয়ান ও সাধারণ নাগরিক মিলিয়ে মোট ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম ৩২ জন। শনিবার রাতে কোয়েট্টার ওল্ড পিশিন বাস স্ট্যান্ডের কাছে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। বিস্ফোরক বোঝাই মোটর সাইকেলে চড়ে সেনাবাহিনীর ট্রাকে ধাক্কা মারে ১ জঙ্গি। সঙ্গে সঙ্গে তীব্র বিস্ফোরণে  কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। সেনাবাহিনীর একটি ট্রাক সহ আশেপাশের আরও কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় দমকলবাহিনী। কিন্তু ততক্ষণে ৪টি গাড়ি, ৪টি অটো রিক্সা ও ২টি মোটর সাইকেল পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। প্রায় আধঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তারপর উদ্ধারকাজ শুরু করে সেনা, আধা সেনা ও স্থানীয় পুলিসকর্মীরা। সেনাসূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবারের হামলায় শহিদ হয়েছেন ৮ সেনাকর্মী। প্রাণ হারিয়েছেন ৭ সাধারণ নাগরিকও। গুরুতর জখম অবস্থয়া কোয়েট্টার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি কমপক্ষে ৩২ জন। অল্পবিস্তর চোট পেয়েছেন আরও ৮ জন। বিস্ফোরণের পর ওই এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। 
হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন পাকিস্তানি সেনা প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। স্বাধীনতা দিবসের উৎসব ভণ্ডুল করতেই জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি তাঁর। প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি বলেছেন, ‘‌হামলার তীব্র নিন্দা করছি। দেশ থেকে সন্ত্রাসের কালো ছায়া হটিয়ে তবে ছাড়ব।’‌ হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন সদ্য ক্ষমতাচ্যুত নওয়াজ শরিফও। লাহোর থেকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী বিশাল জনসভায় যোগ দিয়েছেন তিনি। সেখান থেকেই সন্ত্রাস দমনের সপক্ষে বার্তা দিয়েছেন। মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে তালিবান ও আইএস জঙ্গিরাই এই হামলা ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ সেদেশের গোয়েন্দাদের। কারণ ওল্ড পিশিন বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ওই এলাকায় বালুচিস্তান বিধানসভা, কোয়েট্টা ল কলেজ, বেসরকারি হাসপাতাল এবং একাধিক সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর রয়েছে। প্রচুর মানুষের আনাগোনা সেখানে। এর আগেও ওই এলাকায় একাধিকবার নাশকতামূলক হামলা চালানো হয়েছে। গত জুন মাসের শুরুতে কালাটের জোহান এলাকায় কম তীব্রতার বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। তাতে ৩ নিরাপত্তাকরমী জখম হন। ওই জুন মাসেই ফের কোয়েট্টার গুলিস্তান রোডের সুহাজা চকে বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। তাতে ৭ পুলিসকর্মী সহ মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ১৯ জন। তার দিন কয়েক পরই গোয়াদর জেলার জিওয়ানি এলাকায় জঙ্গি হামলায় শহিদ হন ২ নৌসেনাকর্মী। মে মাসে গোয়াদরের একটি নির্মীয়মান বহুতলের করঞমীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় জঙ্গিরা। তাতে প্রাণ হারান কমপক্ষে ১০ জন শ্রমিক। 

 

 

বিস্ফোরণের পর উদ্ধারকাজে নামে সেনা। ছবি: পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম।
 

Back To Top