কেরলে পাঁচ বছর কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকলে, পরের পাঁচ বছর বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, তারপর, আবার বদল। তিরিশ–চৌত্রিশ বছর টানা ক্ষমতায় থাকার আত্মসন্তুষ্টি নেই, হেরে গেলেও পরের নির্বাচনে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। ফলে, সি পি এম সংগঠন কখনওই খুব দুর্বল হয়ে পড়েনি। কিন্তু, কেরল সি পি এম নেতৃত্বের হাবভাব এমন, যেন, ওদের কোনও ত্রুটি নেই। ঋতব্রত ব্যানার্জি কেন মুখতার আব্বাস নাকভি, নির্মলা সীতারামন ও স্মৃতি ইরানিকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্ব পাওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন, হইচই। সন্দেহ নেই, অস্বাভাবিক অবস্থায় অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কিন্তু, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন কী করলেন?‌ অভিনন্দন জানালেন সব নতুন মন্ত্রীকে। কেরল ক্যাডারের প্রাক্তন আইএএস কান্ননথানম মন্ত্রী হওয়ায় বিশেষ উচ্ছ্বাস প্রকাশও করলেন। দোষ শুধু ঋতব্রতর!‌ অচ্যুতানন্দন যখন মুখ্যমন্ত্রী, পরিকল্পনা পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন বিশিষ্ট বামপন্থী অর্থনীতিবিদ প্রভাত পট্টনায়ক। বিজয়ন এমন একজনকে আমেরিকা থেকে ডেকে আনলেন, যিনি দক্ষিণপন্থী অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। সমালোচনা হবে না?‌ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে সর্বভারতীয় বড় বড় কাগজে পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন দিল কেরল সরকার, আধপাতা জুড়ে বিজয়নের ছবি। কমিউনিস্টসুলভ?‌ বামপন্থী ঐতিহ্য  বলে যা জানা ছিল, প্রবীণ নেতাদের সম্মান জানানো হয়। গত বিধানসভা ভোটেও পার্টি তথা ফ্রন্টের জয়ের প্রধান কান্ডারি ছিলেন অচ্যুতানন্দন। প্রধান বক্তা হিসেবে ৯০ বছর বয়সেও দিনে ১২ ঘণ্টা সভা করেছেন। ভোটে জেতার পর, মুখ্যমন্ত্রী তো করা হলই না, প্রবীণ নেতাকে ন্যূনতম স্বীকৃতি দিতেও চাইলেন না বিজয়নরা। চূড়ান্ত গোষ্ঠীবাজি। কেরল রাজ্য পার্টিকে ‘‌আদর্শ’‌ ভাবা কঠিন নয়?‌

জনপ্রিয়

Back To Top