মর্মান্তিক ঘটনা। দুর্ঘটনায় প্রা‌ণ হারিয়েছে তরতাজা যুবক করণ বাকলিওয়াল। ভবানীপুরে করণের আনন্দের সংসার। আছে বোন, ভাই আর বাবা। সুখে–‌দুখে কাটত দিন। বন্ধুদের নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিল করণ। বাড়ি ফেরার পথে জওহরলাল নেহরু রোডে ঘটল ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। উল্টো দিক থেকে ছুটে আসা টাটা–৪০৭ পিষে দিল করণের গাড়ি। দুমড়ে–মুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে করণকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়েছে তার। হাসপাতালে ছুটে এলেন করণের বাবা অজয় বাকলিওয়াল। ছুটে এলেন আত্মীয়, বন্ধুরা। গভীর শোকে ভেঙে পড়লেন। তা–ই স্বাভাবিক। যে কোনও মৃত্যুই পরিবার, বন্ধুদের বিপর্যস্ত করে ফেলে। অকালমৃত্যু হলে তো কথাই নেই। কোনও সান্ত্বনা, কোনও যুক্তি–বুদ্ধি কাজ করে না। বেদনায় শেষ হয় জীবন। করণের বেলায় কিন্তু শেষ হল না। শেষ হতে দিলেন না অজয়। পুত্রের মৃতদেহের সামনে দঁাড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন, অন্যের চোখের আলোয় বেঁচে থাকবে তাঁর করণ। দৃষ্টিহীনদের জন্য পুত্রের চোখ দান করা হবে। আপ্লুত, অভিভূত সকলে। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন সবাই। এগিয়ে এলেন  চিকিৎসক ও পুলিসকর্মীরা। যোগাযোগ করা হল একটি বিখ্যাত ‌‘‌আই ফাউন্ডেশন’–‌এর সঙ্গে। এল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‌‘‌মৃত্যুঞ্জয়’‌। মৃত করণের চোখ সংগ্রহ করা হল পরম মমতায়। আবার বেঁচে উঠল করণ। বেঁচে থাকবেও। থাকবে আমাদের ভালবাসায়, আমাদের গর্বে। আমরা করণের জন্য বলতে পারব ‘‌নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে, রয়েছ নয়নে নয়নে।’‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top