আবার সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা। এবার নাগপুরে। নৌকোয় ভাসতে ভাসতে একদল যুবক পার্টি করছিল। জন্মদিনের পাটি। মাঝনদীতে যাওয়ার পর সবাই মিলে শুরু করল ‘‌ফেসবুক লাইভ’‌। এ এক ভয়ঙ্কর খেলা। খেলাটি নিম্নমানেরও। ইচ্ছেমতো নিজের ছবি এবং বকাবকানি ছড়িয়ে দিতে হয় ফেসবুকে। যেহেতু কয়েক কোটি মানু্ষ ফেসবুকের নেশায় সর্বক্ষণ বুঁদ হয়ে থাকে, তাই কেউ না কেউ এই ছবি দেখবে, বকবকানি শুনবে। সেটাকেই ‘‌বিরাট কৃতিত্ব’‌ ভেবে নিয়ে আরও নিজের ছবি দেখাও, আরও বকে যাও। এই বোকা খেলা খেলতে খেলতে সেদিন যুবকরা নৌকোর এক পাশে চলে আসে। টাল সামলাতে না পেরে নৌকো হেলে পড়ে। যুবকরা জলে পড়ে। আট জন ভেসে যায়। মর্মান্তিকভাবে  ফেসবুক লাইভের সমাধি ঘটে। সেলফি মৃত্যু আমাদের দেশে রোজ বাড়ছে। আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। এই মৃত্যুর মূল হোতা অবশ্য ফেসবুক। সম্প্রতি এক সমীক্ষা বলছে, নিরানব্বই শতাংশ নিজের ছবি তোলা হয় ফেসবুকে বিলোনোর জন্য। যার একটাই উদ্যেশ্য, ‘‌‌আমাকে কেমন দেখাচ্ছে বল’‌। নিজেকে ছবিতে দেখানোর এই অসুখ যাতে ভাল করে ছড়াতে পারে তার জন্য মোবাইল কোম্পানিগুলো উঠেপড়ে লেগেছে। বাজারে আসছে নিত্যনতুন মোবাইল। তারা কথার থেকে ছবিতে পটু। অন্যের ছবির থেকে নিজের ছবিতে আরও বেশি পটু। সবাই মৃত্যুর নিন্দে করে, সেলফির করে না। ভাবটা এমন, একটু সাবধানে তুললেই তো হয়। মরতে হয় না। যারা সেলফির নিন্দে করে, তারা আবার ফেসবুকের নিন্দে করে না। যারা ফেসবুকের নিন্দে করে তারা আবার মোবাইল নিয়ে উচ্চবাচ্য করে না। আসলে সকলেই মূল আততায়ীকে আড়াল করে চলে। প্রযুক্তিকে যারা মৃত্যুর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তাদের কে শাস্তি দেবে? সবজান্তা ফেসবুক লাইভে মিলবে কি এর উত্তর?‌‌‌

জনপ্রিয়

বিদায় ২০০০, আসছে ২০০

বুধবার ২৬ জুলাই, ২০১৭

নীতীশের সিদ্ধান্তে অপমানিত শরদ 

বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই, ২০১৭

চীনে পরমাণু হামলা চালাতে পারে আমেরিকা

বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই, ২০১৭

Back To Top