বাংলায় বিজেপি নেতাদের হুঙ্কার শুনলে মনে হতে পারে, ক্ষমতার কাছাকাছি এসে গেছেন ওঁরা। ২০২১ বিধানসভা ভোটে এ রাজ্যে সরকার করবে বিজেপি, এ কথা অমিত শাহ নিজে বিশ্বাস করেন?‌  ২০১৯ লোকসভা ভোটে এখানে ক’‌টা আসন পাবেন?‌ পাহাড়ে সংগঠন নেই। মোর্চার ঘাড়ে চেপে এই আসনটা ধরে রাখার জন্য চেষ্টার ত্রুটি নেই আলুওয়ালিয়ার। কেন্দ্র যথেষ্ট মদত দিচ্ছে। যদি জেতেনও, বিজেপি জিতল বলা যাবে না। ২০১৪ সালে আসানসোলে জয়ী হন বাবুল সুপ্রিয়। নিশ্চিতভাবেই বলে দেওয়া যায়, ২০১৯–‌এ তিনি ‘‌প্রাক্তন’‌ হয়ে যাবেন। অমিত শাহ চান, বাংলা থেকে কয়েকটা আসন। সংখ্যার দিক দিয়ে সুবিধে। আরও বড় কথা, বাংলায় প্রভাব বাড়ানোর স্বপ্ন, যে–‌বাংলা ধর্মনিরপেক্ষতায় অগ্রণী।
আগে দেখি, বিজেপি–‌র জোর কোথায়। চল্লিশ বছর আগেও দেখেছি, মারাত্মক সাম্প্রদায়িক আবহাওয়া তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আরএসএস। প্রচারকরা প্রশিক্ষিত, বিষবৃক্ষ পোঁতার কাজটা করে যান প্রায় নীরবে। উদ্দেশ্য ভয়ঙ্কর, কাজকর্ম চাপা। এই সাম্প্রদায়িক ভিতটা ছিলই, আরও পোক্ত করার চেষ্টা জারি। কিন্তু, শুধু প্রায়–‌গোপন বিষ ছড়িয়েই ক্ষমতা দখল করা যায় না, যাবে না এই বাংলায়।
চাই রাজনৈতিক সংগঠন, গণসংগঠন। প্রচার ও আন্দোলন। মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়ে জোর দিয়ে মন জয় করা। হয়ে উঠছে না। রামনবমীতে তরোয়াল নিয়ে বেরিয়ে পড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করা যায়, ভয় দেখানো যায়, বিভ্রান্তি ছড়ানো যায়। জনচিত্ত জয় করা যায় না। কঠিন ঠাঁই এই বাংলা। জন–‌আন্দোলনের পথ ধরে এগোনো ছাড়া ক্ষমতা দখলের ধারেকাছে আসার সম্ভাবনা নেই। লক্ষ্য করুন, অমিত শাহ টাস্ক দিয়ে গিয়েছিলেন, রাজ্যের সব বুথে মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে। বানানো হল বিস্তারক বাহিনী। নেতারাই স্বীকার করলেন, অন্তত অর্ধেক বুথে পৌঁছনোই যায়নি, জনভিত্তি তৈরি করা তো দূরের কথা। লক্ষ্য করুন, তৃণমূলের সঙ্গে তো তুলনা করাই যাবে না, এমনকী ‘‌অচ্ছে দিন’‌–‌এও বিজেপি–‌র মিছিলে যা লোক হচ্ছে, তার চেয়ে চরম দুর্দিনের বামপন্থীরা এগিয়ে। ফলে, মনে মনে নিশ্চয় হতাশ সেই বিজেপি নেতারা, ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান যে–‌দু’‌চারজনের থাকতেও পারে।
রাজ্য সভাপতি হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই দিলীপ ঘোষ কুকথার জন্য খ্যাত হয়ে গেছেন। সম্প্রতি বললেন, বসিরহাটে এত কাণ্ড, দাঙ্গা, বাংলার বুদ্ধিজীবীরা কোথায়?‌ মানুষ ওঁদের কাপড় খুলে নেবে, জুতিয়ে সোজা করে দেবে!‌ কর্মসূচি দিয়ে মানুষকে টানার ক্ষমতা নেই, কুৎসিত কথা বলে অন্তত উগ্র সমর্থকদের গা–‌গরম রাখার ব্যবস্থা। নেত্রী–‌অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় খাটছেন। কয়েক মাস ফিল্ডিং দিয়েই যদি রূপা গাঙ্গুলি রাজ্যসভার সাংসদ হয়ে যেতে পারেন, হাওড়ায় একটা ব্যর্থ নির্বাচনী অভিযান থেকেই যদি জর্জ বেকারও সাংসদ হয়ে যেতে পারেন, লকেটের ভাগ্যে কি শিকে ছিঁড়বে না?‌ আশা ও চেষ্টা, এই তো জীবন!‌ লকেট বললেন, বিজেপি–‌র ভাইরা, যদি তৃণমূল মারতে আসে, আপনারাও মারুন। .‌.‌.‌ কিন্তু, যদি সরাসরি মারতে না আসে?‌ মুশকিল। রাজনৈতিক লড়াই করতে হয়। সাধ্য নেই। খোঁজো শর্টকার্ট। স্রেফ হুমকি আর কুকথায় তো চিঁড়ে ভিজবে না, ভাত সেদ্ধ হবে না।
সোশ্যাল মিডিয়া। একমাত্র দল, যাদের বেতনভুক বাহিনী আছে। ওঁরা শুধু সারা বছর বিষ ছড়ান না, বসে থাকেন সুযোগের অপেক্ষায়। এবং, সমর্থকদেরও নামিয়ে দেন এই মারাত্মক খেলায়। বাদুড়িয়া–‌বসিরহাটের সাময়িক পরিস্থিতির সুযোগ কী করা হল, কয়েকটা উদাহরণ দেওয়া যাক। শুরুটাই হয়েছিল এক বিজেপি–‌সমর্থক অল্পবয়সির জাল ফেসবুক পোস্ট দিয়ে। মুসলিমদের মহাতীর্থের ওপর অর্ধনগ্ন নারীর ছবি বসিয়ে প্ররোচনা ছড়ানো হল। প্ররোচিত কিছু সংখ্যালঘু তরুণ নেমে এলেন রাস্তায়। এঁরা কারা, পেছনে কোনও মৌলবাদী সংগঠন আছে কি না, তদন্ত হচ্ছে। খুব স্পষ্ট ভাষায় এঁদের সতর্ক করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। (‌ওপার বাংলার কিছু জামাতি গুন্ডাকে ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্যই কি কয়েকদিনের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিল কেন্দ্রচালিত বিএসএফ?‌)‌ দুটো দিন খারাপ গেল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এল। এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া–‌সন্ত্রাসটা দেখুন।
একদল লোক কিছু অসহায় মানুষকে পিটিয়ে মারছে, এই ছবি দিয়ে বলা হল, দেখুন কী ঘটছে বসিরহাটে, বাংলায়!‌ ছবিটা আসলে কুমিল্যার, বাংলাদেশের এক সমাজসেবী তথা আওয়ামি লিগ কর্মীকে জামাত বাহিনীর পিটিয়ে খুন করার ছবি। ছবি, আগুন জ্বলছে বসিরহাটে, সব কিছু পুড়িয়ে খাক করে দিচ্ছে সংখ্যালঘুরা, বন্ধুগণ দেখুন। দেড় দিনে পরিষ্কার হয়ে গেল, এ ছবি গুজরাটের, সেই গণহত্যার সময়ের। এক মহিলাকে টেনেহিঁচড়ে নির্যাতন করছে কিছু লোক। প্রচার:‌ দেখুন দেখুন, কী হচ্ছে বসিরহাটে। হিন্দু রমণীর 
ওপর মুসলিমদের অত্যাচার। আসলে একটি ভোজপুরি সিনেমার দৃশ্য!‌ শুধু কি বসিরহাটে?‌ সবাই দেখুন, মুসলিমরা কীরকম অত্যাচার
l এরপর ৪ পাতায়

বঙ্গ সংস্কৃতি অস্ট্রেলিয়া

বুধবার ৮ নভেম্বর, ২০১৭

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজা

শুক্রবার ২৭ অক্টোবর, ২০১৭

রাত পোহালেই কোজাগরি লক্ষীপুজো

বুধবার ৪ অক্টোবর, ২০১৭

সিঁদুর খেলায় তারকা সমাবেশ

মঙ্গলবার ৩ অক্টোবর, ২০১৭

কলকাতা পুজো কার্নিভাল

মঙ্গলবার ৩ অক্টোবর, ২০১৭

গণেশ বন্দনায় মেতেছে বলিউড

বৃহস্পতিবার ২৪ আগষ্ট, ২০১৭

ফুলে ঢাকা চিলির মরুভূমি

বুধবার ২৩ আগষ্ট, ২০১৭

পুতিনের মেমেতে ছয়লাপ রাশিয়া

রবিবার ৬ আগষ্ট, ২০১৭

স্মৃতিতে প্রিয়রঞ্জন

বুধবার ২২ নভেম্বর, ২০১৭

শহীদ অমিতাভকে শেষ শ্রদ্ধা

শনিবার ১৪ অক্টোবর, ২০১৭

সারমেয় সজ্জা

সোমবার ৩১ জুলাই, ২০১৭

Back To Top