ছোট খবর, কিন্তু মারাত্মক। সম্প্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে, মোদি জমানায় মেয়েদের ওপর হেনস্থা বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানই এ কথা স্বীকার করেছে। লোকসভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী হংসরাজ গঙ্গারাম আহির নিজেই জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে মহিলাদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ঘটেছে ৭,১৩২টি। একটি সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ২০১৪ সালের তুলনায় দেশে মহিলা হেনস্থার ঘটনা বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। ভয়ঙ্কর পরিসংখ্যান!‌ লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। অবাক লাগে এরপরেও দেশ যাঁরা শাসন করেন তাঁরা কীভাবে মাথা উঁচু করে ঘুরে বেড়ান দেশে–বিদেশে। বুক ফুলিয়ে ভাষণ দেন। দলের ব্যবস্থা করা ক্যামেরায় জনসভার বানানো ছবি দেখানো হয়। দেখানো হয়, মহিলারা মুগ্ধ নয়নে মাননীয় প্রধাণমন্ত্রীর ভাষণ শুনছেন। ‘‌বেটি পড়াও, বেটি বঁচাও’‌–এর স্লোগান শুনে তারা আপ্লুত। নেতা–মন্ত্রীরা ভাষণে ‘অচ্ছে দিন’–‌এর বানানো ফিরিস্তি দিতে একটুও দ্ধিধাবোধ করেন না। থমকে যান না একবারও। লজ্জার ঘটনা আরও আছে। এই ভয়ঙ্কর পরিসংখ্যান প্রকাশ পাওয়ার পরও বিরোধী দলগুলি আন্দোলনে উত্তাল হয় না। কীসের ভয়?‌ ভয় কি নিজের নিজের রাজ্যের পরিসংখ্যান নিয়ে? যদি উল্টো চাপ আসে?‌ রাজনৈতিক টানাপোড়েনে মহিলা নিগ্রহ চাপা পড়ে থাকে। হয়তো এই ধরনের নিকৃষ্ট অপরাধ ‘‌সহজ’‌ হয়ে গেছে। হয়ে গেছে ‘‌গা–সওয়া’।‌ তাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বর্ণিকা কুণ্ডু হেনস্থার ঘটনায় অভিযুক্তর পক্ষ নিয়ে কথা বলতে দ্বিধা করেন না। বলে বসেন, তদন্তের আগেই কেন অপহরণের অভিযোগ?‌ ছিঃ!‌ আসলে অচ্ছে দিন নয়, দেশে চলছে ‘‌লজ্জার দিন’‌।‌

Back To Top