উইকেটরক্ষক। চেহারা ছোটখাটো হলেই যেন ভাল, ক্ষিপ্রতা তাতে একটু বেশিই হয় নির্ঘাত। ‌শিলিগুড়ির পাপালিও তাই, ছোটখাটো। আগুন লালন করেন ভেতরে, বাইরে দেখাতে একান্ত অনীহা তাঁর। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের পিচের অসমান বাউন্সেও ঋদ্ধিমান সাহার কিপিং দেখে অধিনায়ক বিরাট কোহলি প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কোহলি জানেন নির্ভরযোগ্য উইকেটরক্ষক ছাড়া টেস্ট জেতা কত কঠিন। কুশল মেন্ডিস আর ম্যাথুজের ক্যাচ সম্পর্কে উচ্ছ্বাসহীন প্রতিক্রিয়া:‌ ‘‌প্রথমে যখন বলটা মেন্ডিসের ব্যাটের ভেতরের দিকে লাগল, ভেবেছিলাম বোল্ড হয়ে যাবে। কিন্তু বল প্যাডে লেগে কিছুটা উঠে যায়। বলের গতি এতটাই কম ছিল যে, আমি পৌঁছনোর যথেষ্ট সময় পেয়েছিলাম। সময় অনুমান করে ঝাঁপিয়ে পড়ি। আর ম্যাথুজের ক্যাচটা তো রাহানেও ধরতে পারত। আমি ভাগ্যবান যে, ওটা আমার হাতেই এসেছে।’‌ ভাবা যায়!‌ যেন কিছুই করেননি!‌ যেন মাছের ঝোল দিয়ে ভাত মেখে খাওয়ার মতোই সোজা!‌ আর বললেন: ‘‌‌এ ধরনের উইকেটে কিপিং করতে ভালই লাগে। যত বেশি বল আসে, তত ভাল। এমনিতে দিনে ১০–১২টার বেশি বল পাই না। বেশি বল এলে ফোকাসটা ধরে রাখতে সুবিধে হয়। আর বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিপিংয়ের সময় একটু আগে উঠি।’‌ যেন এবার একটু মাংস–‌ভাত হল!‌ কোহলিকে তাই মুখ খুলতেই হল, বলতে হল, ‘‌বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেটে ও–‌ই সেরা উইকেটরক্ষক। কঠিন জিনিসকে একেবারে সহজ করে দেয় ঋদ্ধি।’‌ ২৭ টেস্টে ৩৩ গড়, ১০৯৬ রান। সেঞ্চুরি ৩, হাফ সেঞ্চুরি ৫। উইকেটের পেছনে ৫২ ক্যাচ, ৯ স্টাম্পিং। ৯ ওয়ানডে ম্যাচে ১৭ ক্যাচ, স্টাম্পিং ১৮। পরিসংখ্যান বলছে, একদিন কিংবা টি ২০ দলে ঋদ্ধিমানকে এই মুহূর্তে দলে নেওয়া উচিত। সম্বরণ ব্যানার্জি নিজের সেরা সময়ে মহামহিম নির্বাচকদের নজর কাড়তে পারেননি। ঋদ্ধির বেলা সেই কাণ্ড ঘটবে না, কারণ প্রতিটি ক্রিকেটারের কেরিয়ার এই লাইভ টিভি জমানায় গোটা দেশের চোখের সামনে। জানি পাপালি মিতবাক, না হয় আমরাই মুখ খুলি।‌

Back To Top