‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ গত বছরের থেকে এ বছর কেন্দ্রকে অর্ধেক লভ্যাংশ দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এরফলে মোদি সরকার ফিসকাল ঘাটতির সমস্যায় পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতি বছর জুন মাসে অ্যাকাউন্ট বন্ধের আগে কেন্দ্রকে লাভের একটা অংশ ফেরত দেয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আগের বছর কেন্দ্রকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ৬৫ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লভ্যাংশ বাবদ দিয়েছিল। এ বছর অর্ধেকেরও কম, ৩০ হাজার ৬৬০ টাকা দিয়েছে। গত পাঁচ বছরে এটাই সর্বনিম্ন ডিভিডেন্ট। মোদি সরকারের কাছে এটা একটা বড় ধাক্কা। তবে এই ধাক্কা সামলাতে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানো হতে পারে। আর নোট বাতিলের পরে যে উদ্বৃত্ত জমা হয়েছে তা দিয়ে এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া যাবে বলে আশা করছে সরকার। তাই সরকারি খরচে কাটছাঁট করার প্রয়োজন হবে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।  
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তের পিছনে নোট বাতিলকেই অনেকে দায়ী করছেন। কারণ, ৮ নভেম্বর নোট বাতিলের হঠাৎ সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরে অর্থ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অর্থব্যবস্থা নতুন করে সাজাতে হয়। নতুন নোট বাজারে ছাড়তে হয়। সেই বাবদ বিপুল অর্থ খরচ করতে হয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে। আর বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক থেকে বাতিল নোট জমা নিলেও রিভার্স রেপো রেট কমাতে পারেনি তারা। ফলত সেই খাতেও অনেক টাকা বেরিয়ে গেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উদ্বৃত্তও কমেছে। ডিভিডেন্ট কম দেওয়ার পিছনে এই কারণকেই বড় করে দেখানো হয়েছে। 
আরবিআই যে পরিমাণ নোট বাজারে ছাড়ে তা এক প্রকার সম্পদ। টাকার বিনিময়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কে সরকার সোনা, বন্ড বা বিদেশি সম্পদ জমা রাখে। সেই বাবদ লভ্যাংশই ফেরাতে হয় সরকারকে। এখন নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের টাকা ফেরানোর দায় থাকে না। এক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে। কেন্দ্র এবার কী করবে?‌ এই অর্থ বর্ষের মধ্যে সরকারকে নির্ধারিত ৭২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করতেই হবে। আর অন্তর্বর্তী অবস্থা হিসেবে আয়কর বাড়ানো হতে পারে। নোট বাতিলের সময় আশা করা হয়েছিল, অন্তত ৫ লক্ষ কোটি বেহিসেবি টাকা আর ব্যাঙ্কে ফিরবে না। সেই আশা অমূলক প্রমাণিত হয়েছে। প্রায় সব অর্থই জমা পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। 

Back To Top